বন্দরবাজার রাস্তা জুড়ে হকার বসিয়ে চাঁদাবাজী যানজট তীব্র হয়ে যায়

প্রকাশিত: ৪:৪২ অপরাহ্ণ, জুলাই ১০, ২০২৩

বন্দরবাজার রাস্তা জুড়ে হকার বসিয়ে চাঁদাবাজী যানজট তীব্র হয়ে যায়

রুহুল ইসলাম মিঠুঃ
নগরীর বন্দরবাজার, রাজা জিসি ও পোস্ট অফিস রাস্তায় প্রতিদিন বিকাল ৩টা ঘড়ির কাটা বাজার আগেই রাস্তার অধিকাংশ জুড়ে হকারদের দখলে চলে যায়।
এ কারণে যানজট লেগে থাকে এ রাস্তা জুড়ে প্রতিদিন বিকাল ৩টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত। পথচারী সহ আশাপাশের বিভিন্ন মার্কেটের দোকান মালিকরা জানান, এই রাস্তায় সব সময় হকাররা অবৈধভাবে দখলে নিয়ে পসরা সাজিয়ে সবজি বিক্রি করে। হকারদের কাছ থেকে এসএমপি পুলিশের পরিচয় দিয়ে লাইনম্যানরা প্রতি হকারদের কাছ থেকে ৫০, ৭০ ও ১০০ টাকা হারে চাঁদা তুলে নেয়। পুলিশের সহযোগিতা ছাড়া হকাররা এই রাস্তা দখলে নেয়ার সুযোগ নেই। সেখান থেকেই আইন-শৃঙ্খলার বিঘ্ন ঘটে। এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন শত শত যানবাহন চলাচল করে থাকে। কিন্তু হকাররা রাস্তার অর্ধেক জুড়ে বেদখল করে রাখায় এখানে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। রাত ৯/১০টা বাজার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের লাইনম্যান পরিচয়ধারী একরাম মিয়া এই রাস্তার হকারদের কাছ থেকে বাধ্যতামূলক অবৈধ চাঁদা তুলে নেয়। তাকে ঠিকমত চাঁদা না দিলে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ডিউটি পুলিশ দিয়ে প্রতি সপ্তাহে ১০/১২ জন হকারকে বিনা গ্রেফতারী পরোয়ানা অভিযোগে ধরে নিয়ে আটক রেখে কোর্টে চালান দেয়া হয়।
ঘটনার শিকার ভুক্তভোগীরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তাদের পরিবারের ভরণ পোষণ চালাতে গিয়ে ফুটপাতে হকারী করেন। পুলিশের পরিচয় দিয়ে কথিত লাইনম্যান একরাম মিয়াকে প্রতি রাত ৮টা পরেই হকার জনপ্রতি ৫০, ৭০, ৮০, ১০০, ১২০ টাকা করে না দিলে তাদেরকে ফাঁড়ি পুলিশ দিয়ে ধরে নিয়ে কোর্টে চালান দেয়া হয়। কোর্ট থেকে জামিনে বের হয়ে আসতে হকারদের জনপ্রতি ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা খরচ করে বের হয়ে আসতে হয়। অনেক সময় বন্দর ফাঁড়ি পুলিশ লাইনম্যান একরাম মিয়ার ইশরায় হকারদের সবজির ভার তুলে নিয়ে ফাঁড়িতে চলে যান। ফাঁড়ি থেকে হকাররা সবজি ছাড়িয়ে আনতে ৮/৯ শত টাকা দিতে হয়।
পুলিশের পরিচয়ধারী লাইনম্যান একরাম মিয়া সবজি ও ফল বিক্রেতাদের খবর দিয়ে বন্দরবাজার, রাজা জিসি ও পোস্ট অফিস রোডে রাস্তা দখল করে বসিয়ে চাঁদা তুলে। যখন হকররা একরাম মিয়াকে চাদা দিতে অস্বীকার করে তখন বন্দর ফাঁড়ির এক শ্রেণির টহলদারী পুলিশ লিখিত অভিযোগ ছাড়াই তাদেরকে ঝাপটে ধরে ফাঁড়িতে নিয়ে যায়। সঙ্গে তাদের মালামাল খুইয়ে দেয়। লাইনম্যান একরাম মিয়া পুলিশ দিয়ে অত্যাচার করার কারণে হকারদের মনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এ প্রতিবেদক লাইনম্যান একরাম মিয়াকে এসব অভিযোগের তীর ছুড়ে দিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি সব সময় এ ধরনের ঘটনাকে মিথ্যা অজুহাতে অস্বীকার করেন। হকাররা জানান, একরাম মিয়া এসব ঘটনা ঘটিয়ে চাঁদা নিয়ে অস্বীকার করাই তার চরিত্র। প্রতিদিন রাত হলে লুকোচুরি করে একরাম মিয়া এই রাস্তার হকারদের মাঝে রাজা-বাদশা বনে যায়। প্রতিদিন একরাম মিয়া এই রাস্তার হকারদের কাছ থেকে ৭ থেকে ১০ হাজার টাকা চাঁদা তুলে।
সূত্র জানায়, লাইনম্যান একরাম মিয়া এসএমপির বন্দর ফাঁড়িকে হাত করে চাঁদার অংশ দিয়ে তার এই অবৈধ কর্মকান্ড টিকিয়ে রাখে। এছাড়া রিকাবীবাজার চতুরমুখী রাস্তা জুড়ে, ফুটপাত সহ রাস্তায় হকার বসিয়ে তাদের কাছ থেকে পুলিশের লাইনম্যান পরিচয়ধারী বহিরাগত লাহিন মিয়া প্রতিদিন ৩০ হাজার টাকা অবৈধ চাঁদা তুলে। সুরমা মার্কেট থেকে তালতলা রাস্তা জুড়ে হকার বসিয়ে রুমন, সুমন, লোকমান লাইনম্যান মিলে প্রতিদিন ২৫ হাজার টাকা চাঁদা তুলে। জিন্দাবাজার পয়েন্ট থেকে পাঁচ ভাই রেস্টুরেন্ট পর্যন্ত রাস্তা জুড়ে হকার বসিয়ে পুলিশের পরিচয়ধারী লাইনম্যান আশিক মিয়া প্রতিদিন ১৬ হাজার টাকা হকারদের কাছ থেকে চাঁদা তুলে নেয়। বন্দরবাজার মধুবন সুপার মার্কেটের পূর্ব কর্ণার থেকে করিম উল্লাহ মার্কেট পর্যন্ত রাস্তা জুড়ে হকার বসিয়ে লাইনম্যান সাব্বির মিয়া প্রতিদিন হকারদের কাছ থেকে ১৮ হাজার টাকা চাঁদা তুলে নেয়। বন্দরবাজার দুর্গাকুমার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কর্মচারী জাহাঙ্গীর আলম বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের উভয় দিকের ফুটপাতে হকার বসিয়ে প্রতিদিন ৭/৮ হাজার টাকা চাঁদা তুলে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ