বাসয় থেকেই করোনা জয়ী হলেন এম শাহরিয়ার কবির সেলিম : ঘরে থেকেই করোনামুক্ত হওয়া সম্ভব

প্রকাশিত: ৩:৩৭ অপরাহ্ণ, জুন ১৭, ২০২০

বাসয় থেকেই করোনা জয়ী হলেন  এম শাহরিয়ার কবির সেলিম : ঘরে থেকেই করোনামুক্ত হওয়া সম্ভব

এম ইজাজুল হক ইজাজঃ
করোনাজয়ী আত্নপ্রত্যয়ী সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা, সিলেট মহানগর শ্রমিকলীগের সভাপতি এম শাহরিয়ার কবির সেলিম করোনা আক্রান্ত হয়েও দৃঢ় মনোবলের সাথে জয় করেছেন কোভিড-১৯। জানিয়েছেন সেই কাহিনী। তিনি হাসপাতালে না গিয়ে বাসায় আইসোলেশনে থেকে কিভাবে করোনা জয় করলেন সেই গল্প শুনিয়েছেন । যা আক্রান্তদের উদ্দেশ্যে তুলে ধরা হল। উপসর্গ না থাকলেও গত মে মাসের শেষের দিকে স্বপ্নণোদীত হয়ে করোনা পরিক্ষার নমূনা দেন সিলেট ল্যাবে। ২৯ মে পাওয়া রিপোর্টে জানতে পারেন তিনি করোনা পজিটিভ। কোনো হাসপাতালে যাননি তিনি। ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে বাসায় আইসোলেশনে থেকে আজ তিনি করোনামুক্ত। আজ ১৭ জুন নমূনা পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ আসায় এখন তিনি পুরোপুরি সুস্থ। আত্মবিশ্বাস থাকলে ঘরে থেকেও করোনা মুক্তি পাওয়া সম্ভব বলে জানিয়েছেন তিনি।
তিনি বলেন, আমি একজন রাজনীতিবিদ রক্তের সাথে মিশে গেছে আমার রাজনীতি। করোনা প্রার্দুভাবের পর থেকেই গৃহবন্দি শ্রমজীবী অসহায় মানুষকে সহযোগিতা করে আসছি। ভাইরাসটি কিভাবে আমার শরীরে সংক্রমিত হল তা আমি বলতে পারবো না যে কোন জায়গা থেকেই হতে পারে। এই ভাইরাসটির একটি বিশেষ্যত্ব একেক জনের শরীরে একেক রকম। আমার শরীরে তেমন কোন উপসর্গ দেখা দেয়নি। তবে শরীরে জ্বর ছিল।
এম শাহরিয়ার কবির সেলিম তাঁর করোনা জয়ী হবার গল্প বলতে গিয়ে বলেন, নিশ্চই সৃষ্টিকর্তা সবারই জন্ম মৃত্যু লিখে দিয়েছেন।আমি সৃষ্টি কর্তার উপর আস্থা রেখেছি। ভয় পেলে মানসিক দুর্বলতা সৃষ্টি হলে ভাইরাস আমার সাথে পেরে যাবে। সেই কথা আমি আগেই জানতাম। সেজন্য আমি সব সময় মনোবল শক্ত রেখেছি।আমি কোনভাবেই দুর্বল হয়নি।
আসলে আত্মবিশ্বাস থাকলে ঘরে বসেই করোনা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। আমি গত ২৫ দিন ঘরে থেকে করোনা যুদ্ধ করেছি। ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে চলেছি। চিকিৎসা নিয়েছি। তিনি বলেন, এখানে বিশেষ করে বলা উচিত আমার বৃদ্ধ মা আমার জন্য সব সময় করুনাময় আল্লাহর কাছে দোয়া করেছেন সাহস যুুগিয়েছেন। আমার স্ত্রী ২৪ ঘণ্টা আমার পাশে থেকে আমার সেবা করেছেন। কোন অবহেলা করেননি। ভয়ও পাননি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সে আমার সেবা করেছে। আমাকে সাহস যুগিয়েছে।
করোনাকালীন কি কি করেছেন জানতে চাইলে বলেন, শরীওে জ্বর ছিল। হালকা গরম পানি দিয়ে গোসল করেছি। প্রচুর গরম পানি পান করেছি।আর প্রতিদিন গরম পানির ভাপ নিয়েছি কয়েকবার। গরম পানি পান করায় গলায় সামান্য ব্যথা থাকায় কিছুটা শান্তিও পেয়েছি । মালটার জুস আর লেবুর শরবত খাওয়া হয়েছে অনেক বেশি। আদা, এলাচ, হলুদ, আর দারু চিনি গরম পানিতে জ্বাল দিয়ে ভাপ নিয়েছি পরে চা হিসেবে খেয়েছি। নিয়মিত নামাজের অভ্যাস তো রয়েছেই। এই কয়েক দিন আমি আলাদা বাথরুম ব্যবহার করলেও বাথরুম থেকে আসার পর প্রতিবার ব্লিচিং পাউডার দিয়ে তা পরিষ্কার করেছেন। আর প্রতিদিন রাতে আমার পরনের কাপড় ও তার কাপড় গরম পানি দিয়ে ধুয়ে দিয়েছেন। ২০ মিনিট পরপর স্যানিটাইজার দিয়ে হাত জীবাণুমুক্ত করেছি।
তিনি আরো বলেন, করোনায় কেউ আক্রান্ত হলে আশপাশের মানুষ সেটা ভালোভাবে নেয় না। এটা ঠিক নয়।তার ক্ষেত্রে অবশ্য আমার সেরকম ঘটেনি। আমার প্রিয় সংগঠন শ্রমিকলীগের সবাই থেকে শুরু করে যারা আমাকে বার বার ফোনে পরামর্শ ও সহযোগিতা করেন তাদের নাম উল্লেখ করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মনসুর এমপি, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, কানাডা আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সরোয়ার হোসেন, পররাষ্টমন্ত্রী আব্দুল মোমেন, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমদ, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন খান, মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন, আসাদ উদ্দিন আহমদ, ইন্জিনিয়ার এ আর খান রেজা ( রাজ্জাক), নাজমুল আলম রোমেন, রাহাত তরফদার, মৌলানা মুহিবুল হক, মিফতা হোসেন, মুজিবুর রহমান, ব্যাংকার আবুল বাশার, আবুল ফয়েজ, সতীশ দেবনাথ, এনামুল হক লিলু পার্থ সারতি দেব, মো. আবুল ফয়েজ, ইয়াসিন সুমন, নবী হোসেন, কানু কাঞ্চন এবং স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে যাদের সু পরামর্শ আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিয়েছি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার জেড এইচ এম নাজমুল আলম, উমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিন্সিপাল ইসমাইল পাটোয়ারী, তার সহ ধর্মিনী আমার মামাতো বোন ডা, শামসুন্নেহার বেগম হেনা, সহকর্মী সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি ও রাজনীতিবিদসহ দেশ বিদেশে অবস্থানকারী আত্মীয় স্বজন , প্রশাসন, পুলিশ বাহিনী, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও মোবাইল ফোনে প্রতিনিয়ত খোঁজ খবর রেখে সাহস যুগিয়েছেন। ওই সময়ে যা তার মনোবল ধরে রাখতে কাজে দিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, আক্রান্তের খবর পাওয়ার পর বৃদ্ধ মা, স্ত্রী ও ছেলে মেয়েকে নিয়ে চিন্তায় ছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে নমুনা পরীক্ষায় তাদের রিপোর্ট নেগেটিভ আসায় তাদের মনোবল অনেক বেড়ে যায়। যা তার সুস্থ্য হওয়ার ক্ষেত্রে অনেক কাজে দিয়েছে।
এখন তিনি তার পরিবার নিয়ে সুস্থ রয়েছেন। তিনি বলেন, সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন। মনোবল হারাবেন না। করোনায় আক্রান্ত হলেই মৃত্যু, বিষয়টি এমন নয়। তাঁর আাদি নিবাস বিয়ানী বাজার উপজেলা থেকে আসংখ্য শুভাকঙ্খী জন প্রতিনিধি রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ ফোনালাপ ও ভিডিও কলের মাধ্যমে যোগাযোগ করেন যারা আমাকে বার বার ফোনালাপে খুজ খবর এমনকি সহযোগিতা দিয়েছেন তাদের প্রতি অসংখ্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

shares