লেখক ও গবেষক // মো. জিয়ারত হোসেন খান, সহকারী কীপার, ওসমানী জাদুঘর, সিলেট।

প্রকাশিত: ১২:০৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩১, ২০২১

লেখক  ও গবেষক //  মো. জিয়ারত হোসেন খান, সহকারী কীপার, ওসমানী জাদুঘর, সিলেট।

বিচিত্র জীবন//ওসমানী
মহম্মদ আতাউল গণি ওসমানী বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে একটি অবিস্মরণীয় নাম, আতা বলে সবাই ডাকতেন। পিতা খান বাহাদুর মফিজুর রহমান ও মাতা মরহুম জোবেদা খাতুন চৌধুরীর ছিলেন দুই পুত্র ও এক কন্যার জনক-জননী।। এই মহাপুরুষের শৈশবকাল পরিবারের মধ্যে বন্ধুহীন অবস্থায় কেটেছে। তিনি তার পিতার সংগে কখনো ঘোড়ায় চড়ে আবার কখনো পায়ে হেটে বেড়াতেন। তাঁর পিতা যখন ঘোড়ায় চড়তেন তখন আতাকেও একটি টাট্টু ঘোড়ায় বাসিয়ে সংগে নিতেন। শিশু আতা বেশ পুলক অনুভব করতেন। নিষ্ঠাবান পিতার ন্যায়নীতি ও কর্তব্য পরায়নতা হওয়ায় পিতার নীতি জ্ঞান নৈতিকতা তাঁর জীবনে গভীরভাবে প্রভাব বিস্তার করে। ফলে বালক আতা দেশটাকে নিবিড়ভাবে দেখার সুযোগ পেয়েছেন। মহম্মদ আতাউল গণি ওসমানীর রতœগর্ভা মাতার নাম জোবেদা খাতুন। ছিলেন একজন বিদুষী মহিলা। তিনি বাংলা জানতেন, তদুপরি তিনি কিছু কিছু আরবি ও ফার্সি ভাষায় জ্ঞান চর্চা করতেন। শিশু থেকে স্কুল জীবন পর্যন্ত ওসমানী তাঁর আদর্শ মায়ের তত্ত্বাবধানে লালিত-পালিত হন। ওসমানী কখন খাবেন, কখন ঘুমাবেন, কখন পড়বেন, কখন খেলবেন এসব তাঁর রত্মগর্ভা মা-ই রুটিন করে দিতেন। ওসমানীর মা ওসমানীকে ¯েœহ করতেন, প্রয়োজনে মা তাঁকে শাসনও করতেন। ফলে, ছোটবেলা থেকেই ওসমানীর কঠোর অনুশীলন, আদব-কায়দা, শৃঙ্খলবোধে অভ্যস্ত হয়ে উঠেন সর্বোপরি তিনি ছিলেন একজন আদর্শ মাতা, যিনি আপন সোহাগ ও শাসনে গড়ে তুলেন ওসমানীর বাল্যজীবন। বাল্যজীবন সুন্দর ভাবে গড়ে ঊঠারই ভবিষ্যৎ জীবনে ওসমানী হন একজন সফল পুরুষ। মায়ের প্রজ্ঞা, কঠোর নিয়মানুবর্তিতা ওসমানীর পরবর্তী সৈনিক জীবনের ভিত অত্যন্ত মজবুত করে। মোট কথা, ওসমানী ছিলেন অতিশয় উন্নত শোনিতধারার অধিকারী, জনদরদী, সমাজ হিতৈষী, এক উচ্চ শিক্ষিত মুসলিম পরিবারের সন্তান। পারিবারিক ঐতিহ্য, পিতার নীতি জ্ঞান নৈতিকতা, মায়ের রুটিন বাধা অনুশাসন, আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তাঁর ছাত্র জীবন ছিল বর্ণাঢ্য, গৌরবময়। তাঁর কর্তব্যপরায়ন, ন্যায়পরায়ন ও সুশৃঙ্খল বিচরণে সকল শিক্ষক এবং ছাত্র/ছাত্রীদের নজর কাড়ে। তিনি আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউ.ও. টি.সি (ইউনিভার্সিটি অফিসার্স ট্রেনিং কোর)-এর সাজেন্ট নিযুক্ত হন। পর পর দুইবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘প্রক্টোরিয়াল মনিটর’ (শৃঙ্খলা রক্ষাকারী ছাত্রনেতা) মনোনীত হয়ে ছাত্রদের সাথে ছাত্রীদের শৃংখলা দায়িত্ব বহন ও তাঁর মধ্যে নীতি নৈপূন্যতার জন্ম দেয়। তার কঠোর নিয়মানুবর্তিতা, শৃঙ্খলাবোধ, নীতি পরায়নতা, শ্রদ্ধা প্রদর্শন তাঁর সৈনিক জীবনে তথা রাজনৈতিক জীবনেও প্রগাড় প্রভাব বিস্তার করে। মূলতঃ আলীগড় বিশ^বিদ্যালয়েই ওসমানীর নেতৃত্ব সুলভ বৈশিষ্টের বিকাশ ঘটে।

ওসমানীর সৈনিক জীবন বেঁচে নেওয়ার পেছনে একটা কিংবদন্তী তথা অনুপ্রেরণা কাজ করেছিল। একবার প্রমোশন ক্যাডার করেছিলেন ওসমানী। আর সেই পরিদর্শন করেছিলেন ক্যাপ্টেন লর্ড উইল্যান্স। ক্যাডারের পর দুইজন যখন হেঁটে যাচ্ছিলেন তখন এক পর্যায়ে উইন্যান্স ওসমানীকে জিজ্ঞাসা করলেন, পড়াশোনার পর কি হতে চাও ? জবাবে ওসমানী আই.সি.এস হতে চান বলে জানালে উইন্যান্স বলেন, তুমি কি মশিজীবি হবে ? ওসমানী বলেন রাষ্ট্রতো এরাই চালন, আর আপনারা তাদের নির্দেশে দেশ রক্ষা করেন। উইন্যান্স আবার বললেন আমি মনে করি তোমার সামরিক বাহিনীতে যাওয়া উচিত। এর ইঙ্গিতে জেনারেল ওসমানী বাঙ্গালী জাতির মধ্যে সামরিক ব্যক্তিত্বের অভাব এবং যা জাতিকে পশ্চাতে টেনে নিচ্ছে এই সত্য উপলব্ধি করার পর সেনাবাহিনীতে যোগদান করার দৃঢ় সংকল্প করেন। উইল্যান্সের মন্তব্য তেজস্বী ওসমানীর মনে এক জ¦লন্ত শিখা জ¦ালিয়ে দিয়েছিল। পরবর্তীতে তেজস্বী ওসমানীর মনে তখন অনাগত ভবিষ্যতের এক দুর্দম ও দুরহ দায়িত্বেও স্বপ্ত জাগ্রত হত।
পিতা খান বাহাদুর মুফিজুর রহমান বড় মাপের বেশ উদার লোক ছিলেন। একবার শিলংয়ে গ্রীষ্মকালীন ছুটি কাটানোর সময় মুহাম্মদ আতাউল গণি ওসমানী তাঁর আব্বাকে জিজ্ঞেস করেন যে, তিনি যদি সামরিক বাহিনীতে যোগদান করেন তাহলে তাতে তাঁর মতামত কি ? সহসা উত্তরে তাাঁর বাবা বলেন নিতান্তই তোমার এটা নিজস্ব ব্যাপার। তবে আমার উপদেশ হবে ডিগ্রীটা পাশ করার পর আই. সি.এস সম্পন্ন করা উচিত। ১৯৩৮ সালে ওসমানী বি. এ পাশ করার পর ভূগোল বিষয়ে মাষ্টার ডিগ্রিতে প্রাথমিক পর্যায়ে প্রিলিমিনারী পরীক্ষায় দ্বিতীয় শ্রেণীতে উচ্চ নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হন। তবে চুড়ান্ত এম. এ পরীক্ষার পূর্বেই বৃটিশ-ভারতীয় সেনা বাহিনীতে ১৯৩৯ সালে জুলাই মাসে এবহঃষবসধহ ঈধফবঃ (জেন্টলম্যান ক্যাডেট) হিসেবে যোগদান করেন বৃটিশ ভারতে সেবাবাহিনীতে তখন প্রতি বছর ৩০০ জন লোক নিয়োগ করা হতো। এর মধ্যে মাত্র ৩০ জন নেয়া হতো ভারত উপমহাদেশের এই ৩০ জনের মধ্যে যোগ্যতার গুণে একজন নির্বাচিত হন। ওসমানী উচ্চতার দিক দিয়ে ছিলেন সাধারন মাপ থেকে কিছুটা খাটো। নির্বাচনী মৌখিক পরীক্ষায় ওসমানীকে বলা হয়, ‘ণড়ঁ ধৎব ঃড়ড় ংযড়ৎঃ’। ওসমানী উত্তরে বললেন, দইঁঃ, ও ধস ঃধষষবৎ ঃযবহ ঘধঢ়ড়ষবড়হ ইড়ড়হধঢ়ধঃর’ । নেপোলিয়ান বোনাপার্ট ছিলেন একদিকে ফ্রান্সের মুক্তিদাতা। অপরদিকে ছিলেন ইউরোপ বিখ্যাত বীর। ওসমানীর এই সাহসিক উত্তর শুনে বৃুটিশ প্রশ্নকর্তার মুখ দিয়ে আর কোনো প্রশ্ন ফুটেনি। ওসমানীকে সেনাবাহিনীর সবচেয়ে উন্নত বাহিনী কিংস কমিশনে অর্থাৎ রাজকীয় বাহিনীতে মনোনীত করেন। সেনাবাহিনীর পরীক্ষাগুলোয়ও ওসমানী দক্ষতার পরিচয় দেন। সেনাবাহিনীতে যোগদানের পরই শনৈঃ শনৈঃ তার উন্নীত হতে থাকে। তিনি ১৯৪০ সালে ৫ অক্টোবর ভারতের দেরাদূন সামরিক একাডেমী হতে সাফল্যের সাথে উত্তীর্ণ হয়ে “বৃটিশ আর্মির কিং কমিশন” প্রাপ্ত হন।
তিনি ছিলেন সর্বদা শৃংখলা ও ন্যায় নীতি ভঙ্গের প্রবল বিরোধী। তাঁর সামরিক বাহিনীতে চাকুরিকালীন সময়ে একটি ছোট ঘটনা এর প্রমাণ বহন করে। এক সময় দিল্লীর লালবাগ কেল্লার একাংশে ডিউক অব ওয়েলিংটন এটিড রূপে নিযুক্ত ছিলেন। এখানে থাকতো একটি কোম্পানী এবং কোম্পানীর সব অফিসাররা রাতে ম্যাচে একসাথে ডিনার খেত। একরাতে ক্যাপ্টেন সেগরী নামে একজন অফিসার ডিনার খেতে খেতে বলে ফেললেন, “কংগ্রেসী বেটারা সব রাজা ও রাষ্ট্রের শত্রু, সব বেটাদেরকে আন্দামানে পাঠানো উচিত”। ওসমানী তখন গরম স্যুপ খাচ্ছিলেন। কথা ক’টা যেন তাঁকে তীরের মত বিদ্ধ করেছিল। তখন সাথে সাথে ওসমানীর প্রতিবাদী কণ্ঠ গর্জে উঠেছিল। এখানে তাঁর দেশপ্রেম এবং শৃঙ্খলা বোধের প্রমাণ তখন থেকেই পাওয়া যায়। তৎক্ষণাত ডিনার খেতে খেতে ওসমানী চিন্তা করলেন, এ মন্তব্য একটি ঐতিহ্যবাহী সামরিক নিয়ম শৃংখলার পরিপন্থী। কারণ মেসে নারী, ধর্ম ও রাজনৈতিক রাজনৈতিক আলাপ আলোচনা নিষিদ্ধ ছিল। ওসমানী তখন ছিলেন লেফটেন্যান্ট। সেগরীর বক্তব্যের প্রতিবাদ করে ওসমানী বললেন, “স্যার আমি মর্মাহত। আপনি সামরিক শৃংখলার পরিপন্থি কাজ করেছেন”। একথা বলায় সবাই চুপ হয়ে গেলেন এবং সবাই যে যার কক্ষে চলে গেলেন। সেরাতেই বাকি তিনজন শে^তাঙ্গ লেফটেন্যান্ট তাঁর রুমে এলেন। সবাই তাঁকে তাঁর সাহসিকতার জন্য অভিনন্দন জানালেন এবং এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ পেশ করার জন্য পরামর্শ দিলেন। ওসমানী পরের দিন তাই করলেন। প্রায় একমাস পর ক্যাপ্টেন মরাল তাকে জানালেন, পল্টনের অধিনায়ক তাঁকে ডেকেছেন। ৫/৬ মাইল দুরে ক্যান্টেনমেন্টের হেড কোয়ার্টারে নির্ধারিত দিনে একই গাড়িতে ক্যাপ্টেন মরাল, সেগরী ও ওসমানী গেলেন অধিনায়কের দপ্তরে। অধিনায়ক কর্নেল ফেজার বললেন, “ ওসমানীর অভিযোগ আমি পড়েছি। আমি দুঃখিত ও লজ্জিত যে আমার সেনা বাহিনীতে এধরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে আমি আনন্দিত ও গর্বিত যে, আমার বাহিনীতে অমিত তেজ¦ী ও সৎসাহসী লোক আছে যে তার প্রতিবাদ করেছে। আমি আশা করি তুমি যখন অধিনায়ক হবে তখন তোমার রেজিমেন্টে এ ধরণের ঘটনা ঘটবেনা। এর প্রতি তোমার সজাগ ও প্রখর দৃষ্টি থাকবে বলে আমার দৃঢ় বিশ^াস।” ফিরতি পথে সেগরী এবং ওসমানী আবার একই গাড়ীতে ফিরে এলেন। পথে সেগরী তার কাছে ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়ে নেন। এ ঘটনা কিন্তু ওসমানীর মনে বহুদিন প্রভাব বিস্তার করেছে। পরবর্তী জীবনে তাঁকে অধীনস্থদের মতামতের প্রতিও শ্রদ্ধাশীল করে তোলে। তখন থেকে ওসমানী অর্জন করলেন প্রতিবাদ করার ক্ষমতা। এরপর থেকে তিনি অতি সাহসের সাথে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতেন। বলা যায় উক্ত ঘটনা থেকেই ওসমানী উচ্চপদস্থ অফিসারদের ন্যায় পরায়নতা, আইন ও শৃঙ্খলাবোধের প্রতি দিক নির্দেশ করলেন। এটা দেশপ্রেম এবং মাতৃভূমির প্রতি ভক্তির জ¦লন্ত দৃষ্টান্ত ও আইন শৃঙ্খলার প্রতি সশ্রদ্ধ আনুগত্যেও জাজ¦ল্য প্রমান। ছোট বেলা থেকেই ওসমানী নীতির প্রশ্নে ছিলেন অনঢ়। তাই অনেকটা অন্তরঙ্গ বন্ধবিহীন ছিলেন তিনি। তাঁর অনেক বন্ধুবান্ধবই ছিল বিশ^বিদ্যালয়, কিন্তু ঘনিষ্টতা তেমন গড়ে উঠেনি কারো সাথে।
মহান মুক্তিযুদ্ধ, মহান স্বাধীনতা এবং সার্বভোমত্বেও সঙ্গে অবিচ্ছিন্নভাবে যারা জড়িত ছিলেন তাঁদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের কমান্ডার ইন চিফ মহাম্মদ আতাউল গণি ওসমানী অন্যতম ব্যক্তিত্ব। ওসমানী শুধু একটি নাম নয়। বাঙ্গালি জাতির সর্বাত্মক মুক্তিযুদ্ধের অখন্ড ইতিহাস। এদেশের স্বাধীনতার চেতনার সাথে মিশে তিনি ইতিহাস ঠাঁই করে নিয়েছেন। তিনি ছিলেন সব সময় নিয়মতান্ত্রিক। তিনি নিজে কঠোরভাবে নিয়ম মানতেন এবং অন্যকে নিয়ম মানতে উৎসাহ করতেন। ওসমানী আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক অবিস্মরণীয় অগ্নিপুরুষ। যাঁর নাম ইতিহাসের পাতায় চির স্মরণীয় হয়ে আছে এবং থাকবে। রাজনীতিতেও ওসমানী ছিলেন ব্যতিক্রমধর্মী। সত্য কথাটি সোজা করে বলাই ছিল তাঁর চরিত্রগত বৈশিষ্ট।
ওসমানীর জীবনে যখন যেভাবে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ এসেছে সেভাবেই তিনি গ্রহণ করতেন। আলীগড় বিশ^বিদ্যালয়ে অধ্যায়নকালীন বিভিন্ন সময়ে সভা সেমিনারে মনিষীদের কাছ থেকেই বিভিন্ন বক্তৃতা ও অনুষ্ঠানমালার মাধ্যমে তিনি শিক্ষা গ্রহণ করতেন। এদের মধ্যে রয়েছেন মিঃ মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ, মিঃ সরোজিনী নাইডু, কমলা চট্রোপাধ্যায়, জওহরলাল নেহেরু ড. এম এস রায়, গান্ধীজি, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী প্রফেসর লাস্কি প্রমুখ। এদের মধে ড. এম এন রায়ের পাঁচ পাঁচটি বক্তৃতা ওসমানীকে মুগ্ধ করেছিল। যা নাকি ছিল ভারতে সমাজতন্ত্রের ভবিষ্যত এবং যা থেকে তাঁর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চিন্তাধারার একটা মাইল ফলক বলে জানা গেছে।
পরিশেষে বাংলাদেশের জন্মের সাথে জড়িয়ে যার নাম, সেই বঙ্গবীর ওসমানী বহুদিন আগে লোকান্তরিত হয়েছেন। অথচ আমরা বয়ে বেড়াচ্ছি তাঁর স্মৃতিভার। হে বঙ্গবীর, ‘চিহ্ন তব পড়ে আছে, তুমি হেথা নাই’।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ