সিরাজপুর কালিগাঁও মাঝপাড়া জামে মসজিদের দেয়ালে ফাটল, আতঙ্কে মুসল্লিরা

প্রকাশিত: ৬:০৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৪, ২০২১

সিরাজপুর কালিগাঁও মাঝপাড়া জামে মসজিদের দেয়ালে ফাটল, আতঙ্কে মুসল্লিরা

সিলেট সদর উপজেলার জালালাবাদ সিরাজপুর কালিগাঁও মাঝপাড়া জামে মসজিদের দেয়ালে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। মসজিদের ভেতরে ও বাইরে একই ধরনের ফাটল দেখা দেওয়ায় মসজিদে নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিরা রয়েছেন আতঙ্কে।
অনেকের আশঙ্কা, যেকোনো সময় ঘটে যেতে পারে ব্যাপক প্রাণহানির মতো বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, মসজিদটি বাইরে থেকে সুন্দর দেখালেও ভেতরে জরাজীর্ণ। মসজিদের দেয়াল, ছাদ ও মেঝেজুড়ে রয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় ফাটল। মসজিদটিতে প্রতিদিন গড়ে শতাধিক মানুষ নামাজ আদায় করে।
মসজিদের বেহাল অবস্থা এবং অবগত করার বিষয়ে জানতে চাইলে মসজিদের কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়রা জানান মসজিদটির অবস্থা এতটাই খারাপ যে ভেতরে প্রবেশ করতে ভয় লাগে। কিন্তু উপায় নেই বলে বাধ্য হয়ে নামাজ পড়ি। এর সংস্কার করা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে। ঐ ইউনিয়নের বাসিন্দা বিশিষ্ট সমাজসেবী প্রবাসী শামসুল হক হাবিবি বলেন এ ব্যাপারে আমি মসজিদে বেহাল অবস্থা দেখে উদ্যোগ নিয়েছি। ইতোমধ্যে মসজিদের ড্রয়িংও হয়ে গেছে কোটি টাকার উপরে খরছ হবে ধারনা করছেন। ঝুঁকিপূর্ণ মসজিদ সম্পর্কে মসজিদটির সংস্কার কাজের আশ্বাস দেন শামসুল হক হাবিবি। তিনি বলেন আমি নিজেই মসজিদটি সরেজমিন ঘুরে দেখেছি। সত্যি মসজিদের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। ইতিমধ্যে নতুন বাজেটে মসজিদটি সংস্কারের জন্য আলোচনা চলছে। দ্রুতই কমিটি গঠন করে ইঞ্জিনিয়ারিং সেকশনের মাধ্যমে মসজিদটি ভেঙে নতুন করে মেরামত শুরু হবে।’
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। এলাকার বাসীর কাছ থেকে ২লক্ষ টাকা নিয়ে কুয়েত জয়েন্ট রিলিফ কমিটি বাস্তবায়নে মসজিদটি নির্মিত হয়। কয়েক বছর যেতে না যেতে মসজিদে ফাটল দেখা দেয়। পরে আর বড় কোনো সংস্কারকাজ করা হয়নি।
এলাকর সূত্রে জানা যায়, কুয়েত প্রতিষ্ঠান মসজিদের নির্মাণ কাজ শেষ করে। কাজ শেষে ১৪ বছর আগে মসজিদ হস্তান্তর করেন। এরপর এত অল্প সময়ে মসজিদের দেয়ালে ফাটল দেখা দেওয়ায় কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সেই সঙ্গে আতঙ্ক বিরাজ করছে মুসল্লিদের মাঝে। এত বড় বাজেটের কাজ কেন ১৪ বছরের মাথায় এমন হবে এ প্রশ্ন এখন মুসল্লি ও এলাকাবাসীর মাঝে। এতে বড় ধরনের পুকুরচুরি হয়েছে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয়রা জানান, প্রথমে যখন মসজিদে নামাজ পড়া শুরু হয়, তখন মুসল্লিদের ভিড়ে মসজিদ কানায় কানায় ভরে যেত। এখন দেয়ালে ফাটল দেখা দেওয়ার পর থেকে মুসল্লিদের সংখ্যা অনেক কমে গেছে।

মসজিদের এলাকার অনেকে বলেন, মসজিদের কাজে বড় ধরনের দুর্নীতি হয়েছে, যা তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে। এখন মানুষের মনে ভূমিকম্পের ভয় কাজ করছে। মসজিদের এই বড় ফাটল সত্যি সবাইকে ভাবিয়ে তুলেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রড ছাড়া মসজিদের ছাদ দেয়া হয়েছে। পাইলিং যেমন হওয়ার কথা ছিল তা হয়নি। কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। এজন্য ফাটল দেখা দিয়েছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

shares