সিলেটে একই পরিবারে ৪ জন ডাক্তার করোনাযোদ্ধা

প্রকাশিত: ৯:১৬ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৭, ২০২০

সিলেটে একই পরিবারে ৪ জন ডাক্তার করোনাযোদ্ধা

এম ইজাজুল হক ইজাজঃ
গত কয়েক মাসে গোটা বিশ্বকে থমকে দিয়েছে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯)। এ ভাইরাস মোকাবেলায় এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকরী ভ্যাকসিন বা ওষুধ আবিষ্কার হয়নি। ফলে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। দিন দিন জনমনেও শঙ্কা বাড়ছে।
সুন্দর এই পৃথিবীকে আবারও বাসযোগ্য করে গড়ে তোলার জন্য নিজেদের জীবন বাজি রেখে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়ে যাচ্ছেন কিছু মানুষ। সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে করোনা আক্রান্ত রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসকরা। তেমনি একজন করোনাযোদ্ধা সাবেক সিভিল সার্জন ও বিএমএ এর সভাপতি ডায়াবেটিকস বিশেষজ্ঞ ডাক্তার আবদনুর নগরীর শাহজালাল উপশহরের বাসিন্দা । তিনি দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরর পর থেকেই করোনা রোগীদের সুস্থ করার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন। পাশা পাশি উনার ছেলে জালালাবাদ রাগিব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এসোসিয়েট প্রফেসর ডা. হাসান তারেক বিন নুর, তাঁর স্ত্রী ডেন্টাল সার্জন জেরিন ইসলাম, আবদুন নুর সাহেবের মেয়ে পার্কভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. তামান্না তাবাসসুম। একই পরিবারের ৪ জন ডাক্তার মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন।
ডা. আবদুন নুর করোনাভাইরাস শনাক্ত হন ১৪ দিন পর সুস্থ হয়ে তিনি পুনরায় রোগী দেখা শুরু করেন। রোগীদের সুস্থ করে তুলতে পরিবার-পরিজনের মায়া ত্যাগ করে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন একই পরিবারের ৪ জন ডাক্তার। আক্রান্ত রোগীদের দিচ্ছেন কার্যকরী পরামর্শ ও সেবা। এছাড়াও যাদের নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে তাদেরকেও সার্বিক সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। সুখের সংসারের মায়া তাদেরকে আটকে রাখতে পারেনি। মানবতার টান সাবেক সিভিল সার্জন ডা. আবদুন নুর মনোবলকে সুদৃঢ় করে দিয়েছেন। পাশাপাশি তাঁর সহ ধর্মীনী সিলেট জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি তূণমূল নারী নেত্রী বিলকিস নুর করোনযোদ্ধা হিসেবে নিজের স্বামী ডা. আবদুন নুর, ছেলে ডা. হাসান তারেক বিন, মেয়ে ডা. তাবাসসুম ও ছেলের বউ জেবিন ইসলামকে অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছেন সব সময়।
নারী নেত্রী বিলকিস নুর সিলেটের নিউজ টুয়েন্টিফোরকে বলেন, আমার ছেলে মেয়ে ডাক্তার। আমি তাদেরকে ডাক্তারি পড়িয়েছি, ডাক্তার হয়ে দেশের মানুষের সেবা করার জন্য, অর্থ উপার্জনের জন্য নয়। আজ আমার ছেলে মেয়ে দেশের সেবা করার একটা বড় সুযোগ পেয়েছে। এটা আমার গর্ব। আমার ছেলে মেয়ে করোনা যোদ্ধা বলে আমি দেশ ও দেশের মানুষের ভালোর জন্য নিজেকে গর্ববোধ মনে করি।
করোনাযোদ্ধা সাবেক সিভিল সার্জন সিলেট নিউজ টুয়েন্টিফোরকে বলেন, মানুষের সেবা করাই আমার কাছে বড় ধর্ম। তাছাড়া আমি চাকরি ছেড়ে অবসরে। দেশের এই পরিস্থিতিতে আমি সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াবো না তো কে দাঁড়াবে? ডাক্তারি একটি সেবামূলক পেশা। আমি সেটাই করছি যেটা এখন দেশের মানুষ আমার কাছে থেকে আশা করছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

shares